শেখ জামালের জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুবলীগ নেতা রাজু দেওয়ান

রাজনীতি সাক্ষাৎকার

স্টাফ রিপোর্টারঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পুত্র শেখ জামালের ৬৮ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর সাবেক সফল কার্যনির্বাহী সদস্য ও আশুলিয়া থানা যুবলীগ এর সভাপতি পদ-প্রার্থী দেওয়ান রাজু আহমেদ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেজো ছেলে শেখ জামাল একাত্তরে পাকস্তানি বাহিনীর বন্দিদশা থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। আজ ২৮ এপ্রিল মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শহীদ শেখ জামালের ৬৮তম জন্মদিন। তিনি ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যার পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর পরপরই ধানমন্ডির বাড়ি থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে বন্দি করে রাখে। সেই সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে শেখ জামালও ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে গৃহবন্দি হন। শেখ জামালের মুক্তিযুদ্ধে যোগদান ছিল অনেকটাই ঘটনাবহুল।
১৯৭১ সালের ৫ আগস্ট সকালে তার মা বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব দেখতে পান, ১৭ বছর বয়সী মেজো ছেলে শেখ জামাল ঘরে নেই। শেখ জামাল তারকাঁটার বেড়া দেওয়া পাকিস্তানি বাহিনীর বন্দিশিবির থেকে পালিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। এদিকে, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব তার সন্তানকে অপহরণের অভিযোগ তোলেন পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে। বিদেশি পত্র-পত্রিকায় ছাপা হলো পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবের ছেলেকে গায়েব করেছে। অন্যদিকে, শেখ জামালের পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের খবরটা জানলেও সংগত কারণে খবরটা একেবারে চেপে যায় স্বাধীন বাংলা প্রবাসী সরকার। কারণ এই ইস্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার এবং ভারত সরকারের তীব্র চাপে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেকায়দায় পড়েছিল পাকিস্তান।
সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আগরতলা থেকে কলকাতা হয়ে শেখ জামাল পৌঁছেন উত্তর প্রদেশের কালশীতে। সেখানে মুজিব বাহিনীর ৮০ জন নির্বাচিত তরুণের সঙ্গে ২১ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি। প্রশিক্ষণ শেষে ৯ নম্বর সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। দেশ স্বাধীন হলে ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর যুদ্ধের পোশাকেই ঢাকায় ফেরেন শেখ জামাল। তাকে পেয়ে মা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বড় বোন শেখ হাসিনা, ছোট বোন শেখ রেহানা এবং ছোট ভাই শেখ রাসেল আনন্দ-আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। ওই দিনই বিকেলে ঢাকার পল্টনে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম আয়োজিত স্বাধীন বাংলায় প্রথম জনসভায় উপস্থিত ছিলেন তিনি। সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন শেখ জামাল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের বুলেটে শাহাদাতবরণের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লং কোর্সের প্রথম ব্যাচের কমিশন্ড অফিসার ছিলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *